বারভিডা প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানাচ্ছে

রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার উজ্জীবিত করার জন্য সৃজনশীল আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে করোনা বিধ্বস্ত অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন)। তবে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা পুরণ এবং কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের ব্যয় সংকোচন এবং আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ জরুরি বলে বারভিডা মনে করছে। ১৪.৬.২০২০ রবিবার বারভিডা কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা শেষে বারভিডা নেতৃবৃন্দ এই মত প্রকাশ করেন।
বারভিডা নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, করোনা মহামারির ফলে দেশের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক একটি বাজেট পেশ করা দুরূহ কাজ। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনকল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখা ও জাতিকে আশান্বিত রাখার লক্ষ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট পেশ করেছেন বারভিডা তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ বাস্তবায়নে যথাযথ মনিটরিং এবং মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই এন্ড #৩৯এস) খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাতের সহায়তায় বিশেষ যতœবান হতে হবে।
দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার উজ্জীবিত করার জন্য ঋণ প্রবাহকে সহজ করতে হবে বলে বারভিডা মত প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে বারভিডা সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার পরিমাণ, আকার এবং ব্যাপ্তি বাড়িয়ে এতে সকল ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও ট্রেডারদেরকে সমান সুযোগ দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাতে পূর্বের শুল্ক ও কর বহাল রাখা হয়েছে, যা গাড়ির বাজার ¯ি’তিশীল রাখতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে বারভিডা মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তবে গাড়ি কেনার পর গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আয়কর বৃদ্ধি এক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বারভিডা মনে করছে। গাড়ির উপর নির্ভর করে অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাই বারভিডা গাড়ির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আয়কর প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানাচ্ছে। এছাড়া কাঙ্খিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে বারভিডা সবসময়ই আয়করের পরিধি বৃদ্ধির কথা বলে আসছে। এদিকে, রিকন্ডিশন্ড এবং নতুন গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে (কাষ্টম্স ভেলুয়েসান) নানা বৈষম্যের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন গাড়ি চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক-কর কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক বেশি হওয়ায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্রেতা কমে যাওয়ায় আমদানি ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীবৃন্দ মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছেন। গাড়ি আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও লক্ষ্যনীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে চলেছে। এ বিষয়টি মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রী এটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাজেট পাসের পর প্রয়োজনে এসআরও জারির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে মাননীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের বিপুল ব্যয় এবং আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে বারভিডা সরকারের পাশে থাকতে চায়। এক্ষেত্রে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে বারভিডার আমদানি করা যে ৮০০০ গাড়ি ইয়ার্ডে রক্ষিত রয়েছে সেগুলোর এপ্রিল ও মে মাসের বন্দর ভাড়া মওকুফ করা হলে গাড়িগুলি ছাড়করণের শুল্ক ও কর বাবদ সরকার ১০০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ৮৭০ সদস্যের জাতীয়ভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বারভিডা সরকারকে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে বারভিডা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী খাত। ব্যক্তি পর্যায়ে আয়কর, শুল্ক ও মূসক প্রদানের মাধ্যমে দেশে একটি ব্যাপকভিত্তিক কর কাঠামো তৈরিতেও বারভিডা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির মাধ্যমে বিশেষ অবদান রেখে আসছে। বারভিডা সভপতি ও দেশের বিশিষ্ট গাড়ি ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল হক (সত্ত্বাদিকারী হকস্ বে) এবং সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ বারভিডা নেতারা মনে করে করোনা মহামারির ফলে বৈশ্বিক কাঠমোাতে যে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে তাতে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন, সরকারের ব্যয় সংকোচন, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী শ্রেণিকে প্রাধান্য দেয়া এবং সৃজনশীলতার সাথে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যব¯’াপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এক পরিবর্তিত, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।