“ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, এডভোকেট:-অপরাহ্নের এক প্রদীপ।”

(“দুষ্টি কলম” টা আমাকে ছাড় দেয় না, কেন যে আমার সারাদিন লিখতে ইচ্ছে হয়, সেটা আমি নিজেও বুঝিনা, যখন দেখি পেটে বোমা মারলেও একটি শব্ধ বেরিয়ে আসার কোন যোগ্যতা নাই আমার, তখন বুঝি, আসলে আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা শুধু অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া…

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
দেয়ালের গাত্রে এক নাম গোত্রহীন,
ফুটিয়াছে ফুল তাই অতিসয় দ্বিন।
দিক দিক করে তার কাননে সবাই,
সূর্য উঠে বলে, “ভাল আছ ভাই”
সূর্যটাই বলবে, সূর্য উঠার সাথে এবং ফুল ফুটার সাথে একটা অনুকরনীয় সম্পর্ক আছে, যার কারণ হিসাবে ফুল ফুটে সুর্য উঠার সাথে সাথে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আর তাত্তিক ভাবে বলতে গেলেও এটাই বলতে হয় যে, রাতের অন্ধকারকে দুরে ঠেলে পৃথিবীর সকলকে সুন্দর একটা সকাল উপহার দেয়ার জন্য ভোরের সোনালী সুর্যের আলোর অবদানই সবচেয়ে বেশী। আবার ভোরের এই পুর্বাবাস টা বিভিন্ন পশু-পাখী তার নিজস্ব অবস্থানের মধ্যে থেকে মানুষ সহ সকলকে জানিয়ে দেয়। মানুষ শুরু করে এবাদত বন্দিগির মাধ্যমে সারা দিনের পথচলা, তার সাথে প্রকৃতিতেও দেখা যায় উজ্জীবিত জীবন। বাগানে ফুল ফুটে, গাছে গাছে পাখী গান গায়, এবং মানুষও তার দৈনন্দিন জীবন যাপনে জড়িয়ে পড়ে, এরই মাঝে কেহ কেহ রেখে যায় উজ্জল নক্ষত্রের মত কিছু অবদান।

ঠিক এমনি এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রামের অবিস্মরনীয় পরিবারের সফল এক কর্ণধার ছিলেন, যিনি জীবনের শুরু থেকেই মানুষ গড়ে দেয়ার প্রাথমিক কারিগর হিসাবে খ্যাত বাসপুর খোন্দকার বাড়ীর প্রইমারি স্কুল মাষ্টার এরফানুল হক খোন্দকার। কার্জত সেই আলোকিত বাড়ীর সেই আলোকিত মানুষটির একমাত্র লক্ষ উদ্দ্যেশ্যই ছিল শিক্ষার মাঝে মানুষকে আলোর পথ দেখানো। কির্তীমান এই বীর পুরুষের অবদান হাজার কুটি মানুষের হৃদয় জয় করে আজও এলাকাবাসির মুখে মুখরিত। সীমিত জীবনের অধীকারি হলেও ( ১৯৭৮ সালের ১৮ইএপ্রিল মৃত্যুবরন) সুদীর্ঘ ৪৩ বছর পরেও এলাকাবাসির নিকট স্মরনীয় হয়ে আছেন।

এটা কোন রাজনীতির ইতিহাস নয়, দেশ বিদেশের কল্পলোকের গল্প কাহিনীও নয়, নয় কোন রাজ-রানীর রাজকন্যার ইতিহাস। এটা হিন্ধু বসতি বিহীন ছোট্ট একটা গ্রামের এক বিপ্লবী পরিবারের জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া স্বল্প শিক্ষীত নারীর স্বর্ণাক্ষরে লেখা জীবন কাহিনী, যাহা গিনেজ বুকে নাম উঠলেও অবাক হওয়ার মত কিছু নয়। গিনেজ বুকে নাম উঠানোর ব্যার্থতায় কারো কারো মনে হাহাকার করতে করতে জাতি এবং সমাজের নিকট ঘৃনিত আলোচিত সমালোচিত হলেও সেরকম আকাঙ্খা বিহীন প্রতিভাবান মহিয়সি এই নারীর কাহিনী বিশ্বের ইতিহাসে লেখা না থাকলেও দেশের ইতিহাসে ও মানুষের মনের ইতিহাসে বহুদিন জ্বল-জ্বল করে লেখা রয়ে যাবে।
যে বীর পুরুষের নাম মৃত্যুর প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর (লিখাটি লিখার সময়) পরও জেলা, থানা, ইউনিয়ন এবং গ্রামসহ পূর্ণ এরিয়ার আবাল-বৃদ্ধ বনিতা সকলের মনের পরতে পরতে রাতজাগা পাখীর মত স্বরনে আছে, সেই স্বরনীয় বরনিয় বীর পুরুষের সহধর্মীনির নাম সহজেই ভুলে যাবার নয়। ক্ষনজন্মা এই নশ্বর পৃথিবীর নশ্বর জীবনের অবিনশ্বর কাহিনীর মত রেখে যাওয়া দশটি উজ্জল নক্ষত্রের জন্ম দেওয়া এবং প্রত্যেককে সৎ-নিষ্ঠাবান মানুষ হিসাবে তৈরি করার কারিগর হিসাবে চিহ্নিত সফল নারীত্তের অধীকারি রতœগর্বা এওয়ার্ড প্রাপ্ত মহিয়সি এ নারীর নাম মিসেস আনোয়ারা বেগম। যার প্রত্যেকটা সন্তানদের গড়ে তোলেন একবোরে নিখাদ খাটি সোনার মত করে, যাদের কারো জীবনে নেই কোন পরমানু পরিমানও কলঙ্কের দাগ।
একটু ভিন্ন কথায় বলতে গেলে যেন কারো নিকট ঋনি থাকতে না হয়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে জন্ম দেওয়া ১০ সন্তান (৫ পুত্র এবং ৫ কণ্যা) অর্থ্যাৎ নিজের ৫ কন্যাকে অন্যের ঘরে পুত্রবধূ করে পাঠিয়ে যেন অতৃপ্ত থাকতে না হয়, ঠিক ৫ ছেলের বউকে অর্থ্যাৎ ৫ পুত্রবধূকে ৫ কণ্যার স্থলাবিসিক্ত করে নিজের শিয়রে স্থান দিতে পারা গৌরবের দাবীদার এই নারী।
যে নারীর ৫ কণ্যা ও ৫ পুত্রসহ ১০ সন্তান সকলেই পুর্ণিমা চাঁদের মত সোনালী আলো ছড়াতে না পারলেও অমাবশ্যার অন্ধকারের মত কেউ নেই। প্রথম দুই কণ্যা ব্যাতিত (২য় জন বর্তমানে মৃত) প্রত্যেকে দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের যোগ্যতা অর্জন সহ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ব বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করে নিজেদেরকে স্ব-স্বক্ষেত্রে সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ বানিয়ে রেখে এই মহিয়সী নারীর মৃত্যু পরবর্তি জীবনকে উজ্জল করে দেশের ইতিহাসে স্থান করে রেখেছেন।
ইতিহাসের পাতায় স্থান না পাওয়ার কোন কারণ নাই, যা প্রায় প্রতিটি সন্তান আজ আইনজীবী, ডাক্তার, সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট, লেখক, কবি সাহিত্যিক হওয়াসহ স্ব-স্বঅবস্থানে আলোকিত মানুষ হিসাবে জীবনের মাঝারি অবস্থান থেকে প্রায় শেষ পর্যায়ে আছেন। ৫ কন্যার তৃতিয়জন দেশের সর্বোচ্ছ বিচারালয় (হাই কোর্ট, সূপ্রিম কোর্ট) এর আইনজীবী হিসাবে কর্মজীবন কাটিয়ে আসলেও পর পর দুই বার রাষ্ট্রীয় পলিসি মেকার অর্থ্যাৎ পার্লামেন্ট মেম্বার (এমপি) হিসাবে নিজের নামকে ইতিহাসের স্বাক্ষি করে রেখেছেন দেশের ইতিহাসে। যার জন্য এতটুকু লিখার প্রয়াস তিনিই হলেন এই রতœগর্বা নারীর তৃতিয় কন্যা “এডভোকেট ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা”। স্বনামধণ্য আইনজীবি এবং তুখোর পার্লামেন্টারিয়ান হিসাবে খ্যাতি থাকলেও একজন মিষ্টভাষী অনন্য নারী আইজীবী হিসাবেও খ্যাত দেশের আইজীবী অঙ্গনে। দাম্পত্ত জীবনে স্বামী কাজী সিদ্দিকুর রহমান একজন সুনামধণ্য সি এন্ড এফ ব্যাবসায়ী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত।
জীবনের শুরু থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ব-বিদ্যালয় সর্বক্ষেত্রেই নিজেকে একজন সফল নারী হিসাবে সুনামের সহিত আবদান রেখে ব্যবহারিত চেয়ারকে উজ্জল করে রেখেছেন, কোন কলঙ্কিত হতে দেন নি। বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ-বিপক্ষ হিসাবেও নিজেকে রেখেছেন নিষ্পাপ ও কলঙ্কমুক্ত। দেশের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে টক-শোতে নিজের সুকৌশলী ও জ্ঞানগর্ব জনসেবা মুলক বক্তব্যে দেশবাসির নিকট একজন দুরদর্ষী আইনজীবী ও রাষ্ট্রিয় সেবকের জনপ্রিয়তা আর্জন করেন। জনসেবা ও পরোপকারী ব্যাক্তিত্ত্ব ছাড়া অধীকতর সুযোগ সুবিদা এবং ভিন্ন উপার্জনের অবস্থানে থেকেও কখনো অর্থ সম্পদের দিকে আকৃষ্ট না হয়ে নিস্পাপ-নির্লোভ এবং সু সোভিত সাধারন জীবন-যাপনকে বেছে নিয়েছে নিজে, এবং দুই পুত্র সন্তানকেও প্রকৌশলী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তৃনমুল থেকে উঠেআসা মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বসন্তের দক্ষিনা মলয় সমিরের মত স্থান করে নেওয়া এই নারী “এডভোকেট ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা” যার জীবনের বেশীরভাগ সময় বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কল্যানে এবং রেখে গেছেন ইতিহাসের উজ্জল দৃষ্টান্ত। পিতা-মাতার আদর্ষে আদর্শবান এই নারী ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীতে নিজের ভাই বোন এবং স্বামী সন্তানসহ আমরন যেন সমাজের সর্বস্তরের সকলের হৃদয়ের মনিকোঠায় লৌকিকতার স্থায়ী অবদান রেখে যেতে পারেন, সমাজের কাঙ্খিত দৃষ্টির সীমানা সেখান পর্যন্ত আবর্তিত।

লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, কলামিষ্ট ও মানবাধিকার কর্মী।