
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
উচ্চ মাধ্যমিকের পর্ব চুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে নেমেছেন নাহিয়ান অর্থি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফলাফল একে একে প্রকাশ পায় আর দুশ্চিন্তা গ্রাস করে নেয় তাকে। কারণ কোনোটায় সুযোগ মেলেনি, আবার কোনোটায় আটকে আছেন অপেক্ষমাণের তালিকায়। সব মিলিয়ে অর্থি হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই তো মোটা অংকের টাকার হিসাব। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে অর্থির সে সক্ষমতা নেই। তাই ভালো মানের শিক্ষা এবং তুলনামূলক কম খরচ, এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথা ভাবছিলেন অর্থির অভিভাবক। শেষ পর্যন্ত খোঁজখবর নিয়ে অর্থিকে ভর্তি করা হয়েছে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে।

অর্থির মতো অনেক শিক্ষার্থীর কথা ভেবেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের দরজা খোলা রেখেছে। অর্থাৎ মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ যাতে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে নজর দিয়েই তাদের এ যাত্রা।
খুব বেশিদিন হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স। কিন্তু এরই মধ্যে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৭টি বিষয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কলা, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদে পড়াশোনা করছেন।
এক নজরে
অনুষদের অধীনে ১৭টি বিষয় মধ্যে রয়েছে কলা অনুষদের বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, এমএ ইন ইংলিশ, বিএ (অনার্স) ইন ইসলামিক স্টাডিজ, এমএ ইন ইসলামিক স্টাডিজ। আইন অনুষদের ব্যাচেলর অব ল’ (অনার্স), মাস্টার্স অব ল’। ব্যবসায় অনুষদের বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ। বিজ্ঞান অনুষদের বিএসসি ইন ফিজিকস, এমএসসি ইন কেমিস্ট্রি, এমএসসি ইন সয়েল ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইস), প্রকৌশল অনুষদে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইইই, বিএসসি ইন সিএসই, এমএসসি ইন সিএসই, বিএসসি ইন সিভিল, ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বলেছেন ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন। তার খানিকটা তুলে ধরা হয়েছে পাঠকদের জন্য-
ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মূলমন্ত্র কী?
আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীদের জীবনের অনেক বড় একটি পর্ব শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার মধ্য দিয়ে। বিশেষ এ পর্ব শেষে তারা যাতে জীবনের প্রতিটি ধাপে সফল হতে পারে, এমনটাই আমাদের চাওয়া। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মূলমন্ত্র ‘স্টার্ট হিয়ার, সাকসিড হিয়ার’। অর্থাৎ শুরুটা হোক এখান থেকে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
সবসময় ভেবেছি বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় বিশ্বমানের শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার কথা। যার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু একটা সময় মনে হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাও প্রয়োজন। যাতে শিক্ষার্থীরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। এসব বিবেচনায় রেখে ২০১৩ সালে ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৪ সালের স্প্রিং সেমিস্টার থেকে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পাঁচ বছরে পা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে?
বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক মানের এ বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের চাওয়া ক্রমবর্ধমান সমাজ ও ব্যক্তিদের উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। অন্যদিকে শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে জ্ঞান আহরণের সবচেয়ে আধুনিক ও সহজ পন্থা অনুসরণ করে ভবিষ্যতের পথে পা বাড়ানোও আমাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা কী রয়েছে?
শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা মেধার ভিত্তিতে ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা অভিজ্ঞ শিক্ষকের পাশাপাশি মেধাবী তরুণ শিক্ষকদের মেধা কাজে লাগাচ্ছি। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটা কথা বিশ্বাস করে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ জব মার্কেটে কোয়ালিটি এডুকেশনের বিকল্প নেই। সেদিক থেকে এখানে শিক্ষার্থীদের সেভাবেই গড়ে তোলা হয়, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয়ে তারা প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারে। এছাড়া সুষ্ঠু মেধা বিকাশের লক্ষ্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। গেল বছরই কিন্তু ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় ফারাজ গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৮তে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।












