
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
স্বস্থির বাজারে অস্থির পেয়াজ, সবকিছু লোকাল ও সাবএক্সপ্রেস ট্রেনে চললেও পেয়াজ চলেছে ননষ্টপ সূবর্ন এক্সপ্রেস ট্রেনে, যার গতি শেষ ষ্টেশানে না পৌছা পর্যন্ত থামবেনা। আর এর শেষ কোথায় তা কারই অজানা নয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়াজে আমাদের চাহিদা সংকুলান করতে না পারার কারনেই আমাদের কে পেয়াজ আমদানি করতে হয়। আর এই আমদানি নির্বরতা একটা নিদৃষ্ট রাট্রের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেও চাহিদা পুরণ করা যেতে পারে,এতে অস্থিরতার কিছু থাকার কথা নয়। আমরা জানি কোন কিছুর সংকট স্থায়ী নয়, সাময়ীক সময়ের জন্য, কিন্তুু এ সাময়ীক সময়ের জিনিসটাকে কিছু আতি মুনাফা লোভি মজুদদার সিন্ডিকেট করে সারা দেশের সাধারন মানুষকে জিম্মি বানিয়ে যে পায়দা লুটে নেয় তাদের নীতি নৈতিকতার কোন ছিটে ফোটাও আছে কিনা এটা বর্তমানে আমাদের দায়ীত্ত্বশীল লোকেদের ভেবে দেখার বিষয়। যেহেতু আমরা একটা স্বাধীন সাবভৌম গনতান্ত্রীক রাষ্ট্রের নাগরিক।

আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে আছে, একটা স্বাধীন সাবভৌম রাষ্ট্র হিসাবে কোন রাষ্ট্রের সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ত্ব পুর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার নীতি উল্লেখ আছেকি না তা আমার জানা নাই। ভৌগুলিক অবস্থানের কারনে আমাদের দেশের দক্ষিন দিকে বঙ্গোপ সাগর, বাকি তিন দিকের একটু অংশ মিয়ানমারের নদী সংযোগ ছাড়া প্রায় পুরোটাই ভারত বেষ্টিত। ২৯টি প্রদেশের সমন্ময়ে ঘঠিত বিশাল ভারতের সব চেয়ে ছোট্ট প্রদেশটির আয়তনও আমাদের সুজলা সুফলা মাতৃভুমি বাংলাদেশের চেয়ে আনেক বড় এবং তাদের জনসংখ্যাও আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বেশি যার কারনে সেদেশের সকল ধরনের কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদন মাত্রা বেশি, এবং রপ্তানিও বেশি । বিশাল ভারতের পেটের ভিতরে অবস্থানরত আমাদের ছোট দেশে জনসংখ্যার তুলনায় কৃষি জমি কম হওয়ার কারনে আমাদের অনেক পন্যই পুরো বছরের চাহিদা পুরনে স্বক্ষম নয় বলে সময় ও খরচের কথা চিন্তা করে এসব পন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করতে হয়।
প্রতিবেশি রাষ্ট্র, বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সম্পর্ক আতি উচ্ছ ম্ত্রায় এবং কথায় কথায় বর্তমানে সম্পর্ক আরো উচ্ছ মাত্রায় থাকলেও মাঝে মাঝে আমাদের কিছু জিনিসের সংকট মুহুর্তে বন্ধু রাষ্ট্রে প্রাচুর্যতা স্বত্ত্বেও কৃত্তিম সংকটের কথা বলে আমাদের নিকট হতে বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সুযোগ আদায় করে নিতে দ্বিধাবোধ করেনা। তার প্রমান ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালে আমাদের তত্ত্বাবদায়ক সরকারের আমলে চাল নিয়ে যে চালাচালি, ২০১৬তে একবার পেয়াজ নিয়ে ফালাফালি এবং বর্তমানে পেয়াজের টালমাটাল অবস্থা, তাছাড়াও মাঝে মাঝে আরো কিছু পন্য নিয়েও বন্ধুরাষ্ট্র সুযোগ আদায় করতে ছাড়ে না। এতকিছু সত্ত্বেও কদিন আগে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মত’। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা অবস্যই ভাল কিন্তুু, এখানে আমার একটা প্রশ্ন, তাইলে কে স্বামী আর কে স্ত্রী? ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক দক্ষীনা রঞ্জন মিত্র মজুমদার তার বাংলাসাহিত্যের ইতিবৃত্ত্বে লিখেছিলেন ‘বিষেশনের সবিশেষ কহিবারে পারি, জাননি স্বামীর নাম নাহি লহে নারী’। মাননীয় মন্ত্রী মহদয় হয়তো সে কারনেই স্বামীর নাম উল্যেখ্য করেন নাই।
বাজারে নতুন পেয়াজের পাতা বিক্রয় দেখে বুঝা যায় কদিনের মধ্যেই নতুন পেয়াজ বাজারে আগমন, সময় তেমন একটা দেরি নাই। অবশেষে ভারতের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে, ৩১/১০/১৯ইং এর বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন নিউজে ‘ভারতে পেয়াজের মুল্য সর্বকালের সর্বনিম্নে, প্রতি কেজি পেয়াজ ৬ থেকে ১০ রুপিতে বিক্রয় হচ্ছে। পেয়াজ রপ্তানি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কৃষকের মাথায় হাত। পেয়াজের পচন রোধ ও নতুন পেয়াজের আগমনি চিন্তায় দিশেহারা হয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেঙ্গালুর, কর্ণাটক সহ বিভিন্ন প্রদেশের কৃষকরা পেয়াজ রপ্তানি শুরু করেছে।
অবশেষে কৃষকদের চাপের মূখে ২৮শে অক্টোবর সে দেশের কেন্দ্রিীয় সরকার পেয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। আমাদের পেয়াজ সংকটের সুযোগ আদায় করতে গিয়ে কেন্দ্রিীয় সরকার গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯ পেয়াজ রপ্তানিতে রিষেধাজ্ঞা জারি করে ফলে আমাদের দেশে এই পন্যটির দামে অস্থিরতা দেখা দেয়, হু হু করে দর বাড়তে থাকে। মজার ব্যাপার হল সুযোগ আদায় করতে গিয়ে কাজটা তাদের নিজের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাড়িয়েছে। অর্থাৎ পেয়াজ নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্র নিজের জালে নিজেই ফেঁসে গেছেন।
সবর্বশেষে বলতে হয় যে, বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে কোন সমোজতা করতে না পারলেও অতিমুনাফা লোভী ও দূর্নীতিবাজ মজুদদার দের হাত থেকে সংকটের সময় দেশের বাজার ঠিক রাখার স্বার্থে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন, যাতেকরে জরিমানার ভয়ে এসব ব্যাবসায়ীরা মুহুর্তে মুহুর্থে পন্যের দামের ভারসাম্য ঘটাতে না পারে, তাহলেই পেয়াজের অস্থির বাজারে স্বস্থিরতা ফিরে আসবে বলে জনগনের বিশ্বাস।
লেখক : রাজনীতিক ও মানবাধীকার কর্মী।











