
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বর্তমানে ব্যবসায়িক শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহী হয়ে উঠছে। উচ্চতর শিক্ষা নেয়ার সময় মেজর কোর্স হিসেবে বেছে নিচ্ছে অ্যাকাউন্টিং। আপনি যদি হিসাব রক্ষায় ও সাংগঠনিক কাজে পারদর্শী হন, তাহলে অ্যাকাউন্টিংয়ে পড়লে স্থিতিশীল ও লাভজনক পেশা আপনি বেছে নিতে পারেন।
আপনি যখন অ্যাকাউন্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবতে শুরু করবেন, তখন দেখা যাবে বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের জন্য বিভিন্ন কর্মের সুযোগ রয়েছে। অ্যাকাউন্টিংয়ের প্রতিটি ডিগ্রি আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার জীবনের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করবে। বিভিন্ন ডিগ্রি ও স্তর অনুযায়ী পছন্দের পেশাও খুঁজে নেয়া সহজ হবে।

সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা কোর্স
যারা অ্যাকাউন্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা অনেকেই এ বিষয়ে শর্ট সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা কোর্স করেন। বেশির ভাগ ডিপ্লোমা প্রোগ্রামই এক বছর মেয়াদি হয়। যেখানে অ্যাকাউন্টিং, পেরোল, বুককিপিং ইত্যাদি কাজ শেখা যায়। আর এটুকু যথেষ্ট প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদি গ্র্যাজুয়েশন চেয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো, সেক্ষেত্রে এ শিক্ষা যোগ্যতা থাকতে হবে।
অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি
সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা কোর্স করার পর এ কোর্সটি করে নেয়া যেতে পারে। দুই বছর মেয়াদি অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি শুধু শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টিংয়ের ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা দেবে ও মূল ধাপগুলো সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে। অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করলে হিসাবরক্ষক হিসেবে কোনো কোম্পানিতে এন্ট্রি লেভেলের চাকরি পাওয়া যাবে।
ব্যাচেলর ডিগ্রি
অ্যাকাউন্টিংয়ে সুদূরপ্রসারী ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সবচেয়ে ভালো হয় চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে নেয়া। আর ব্যাচেলর ডিগ্রিতে সর্বনিম্ন ১২০ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যেই যদি অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি নেয়া থাকে, তাহলে প্রথম ৬০ ক্রেডিট সম্পন্ন হয়ে যাবে আগেই। ব্যাচেলরের প্রথম দুই বছরে থাকবে অ্যাকাউন্টিং, ব্যবসায়, ফিন্যান্স, ম্যাথমেটিকস ও স্ট্যাটিস্টিকস কোর্সগুলো।

মাস্টার ডিগ্রি
ব্যাচেলর ডিগ্রির পর বাড়তি দুই বছর সময় লাগে এ ডিগ্রি নেয়ার জন্য। আর বেশির ভাগই অ্যাকাউন্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একে শেষ ধাপ হিসেবে নেয়। মাস্টার্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় অ্যাডভান্স অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে দক্ষতা। তাছাড়া ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং ও ট্যাক্সেশন অ্যাকাউন্টিং বিষয়গুলোয় আলাদা আলাদা জ্ঞান তৈরি হয়। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর পদে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাগুলো তৈরি হয়।
পিএইচডি বা ডিবিএ অ্যাকাউন্টিং
অ্যাকাউন্টিংয়ে দুটি ডক্টরাল ডিগ্রি রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্টেশন (ডিবিএ) ও পিএইচডি। দুটি ডিগ্রি করার ক্ষেত্রেই প্রয়োজন ধৈর্য ও অধ্যাবসায়। ডিবিএ মূলত প্রফেশনাল ডিগ্রি। এটি আসলে তাদের জন্যই, যারা মূলত হাতে-কলমে কাজ করতে চান। অন্যদিকে তারা পিএইচডি করতে পারেন, যারা কলেজে পড়াতে চান বা গবেষণা করতে চান।
সূত্র : অ্যাকাউন্টিং ডিগ্রি ডট অরগ












