অর্থনৈতিক স্বচ্চলতা ফেরাতে ১০০০ এবং ৫০০ টাকার ব্যাংকনোট বাতিল জরুরি

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
গত ১৫ বছরে আর্থিক খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি, লুটপাট, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ফলে জনশক্তি ও সম্পদে উন্নয়নমুখি একটা স্বাধিন সার্ভভৌম রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামো বিশেষ করে আর্থিক অবস্থা কিভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে তার শতভাগ প্রমান প্রায় ৫৬হাজার বর্গমাইলের বর্তমানের বাংলাদেশ। দীর্ঘ অত্যাচার, অবিচার, লাগামহীন দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্গন, গুম-খুন, হত্যা- গনহত্যাসহ দ্রব্যমুল্যের প্রেসনে জর্জরিত করে দেশের প্রায় ১৮ কোটি রক্তচোষা মানুষের অধিকার আদায়ে ৫আগষ্ট দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদ পদত্যাগ করে সারা বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি তাক করে নির্লজ্জ পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার দল এবং মন্ত্রীসভার বেশিরভাগ মেধাহীন, অযোগ্য ও অর্থলোভী লোকের কারনে দেশের আর্থিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। এ অবস্থা থেকে তড়িৎ পরিত্রান পেতে হলে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ১০০০ এবং ৫০০ টাকার ব্যাংক নোট জরুরি বাতিল করে অতিদ্রুত আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক করা।

সম্প্রতি পালিয়ে যাওয়া সরকার ও তাদের দোসরদের লোভ লালসার সীমাহীনতার কোন অন্ত ছিল না। দেশের চালিকা শক্তি শিল্প, বিমা এবং ব্যাংক খাতকে বানিয়েছে দেউলিয়া। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি করে দেশে টাকা না আনার অভিযোগও রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সরকারের মন্ত্রী এমপিসহ আওয়ামী মদদপুষ্টরা রাজনৈতিকভাবে এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, কিস্তি পরিশোধ না করলেও তাদের কিছু বলা যেত না। বাংলাদেশ ব্যাংকও জেনে চুপচাপ ছিল। তাই এসব ঋণ দীর্ঘদিন আদায় ছাড়াই পড়ে আছে। এসব ঋণের অধিকাংশই খেলাপি যোগ্য।
গত ১৫ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন সালমান এফ রহমান ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। শুধু জনতা ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি করে বাজার থেকে নিয়েছেন ৬৬০০ কোটি টাকা
২০০৬-০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশে অনুসন্ধানে বের করেন যে, ১২২ জন দলীয় নেতা ও আমলা দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন ৪৫ হাজার কোটি টাকা। মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ মোট ১৭টি দেশে এসব অর্থ পাচার করেছে। পাচার হওয়া ৪৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা সালমান এফ রহমানের। আমেরিকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসার নামে এসব টাকা পাচার করা হয়েছিল।

সদ্য বিদায়ী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী দেশজুড়ে বহুল আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী ছিল এস আলম গ্রুপ। দুর্ধর্ষ এস আলম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গত এক দশকে ব্যাংক দখল, অর্থ পাচারসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে তিনি এসব কর্মকান্ড ঘটিয়েছেন। গত ৫আগষ্ট দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদ পদত্যাগ করে নির্লজ্জ পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীসভার বেশিরভাগ অযোগ্য ও অর্থলোভী সরকারের মন্ত্রী এমপি এবং প্রশাসনের কিছু সুবিধা ভোগীসহ আওয়ামী মদদপুষ্টরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে ২০১৪-১৮-২৪এর সংসদ নির্বাচনের নামে ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে প্রয়াসই বিভিন্ন অনিশ্চয়তায় পড়েপড়ে দেশত্যাগের উপক্রম হলে প্রতি মুহর্তে নিজের এবং পরিবারের আর্থিক সাপোর্টের জন্য নগদে লক্ষকোটি টাকা এবং ডলার ক্রয়করে নিজের আয়ত্বে জমা করে রাখেন, যার প্রভাব বিশেষকরে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনপুর্ব সময়ে দারুনভাবে পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে ডলারের রিজার্ভ নুন্যতম মাত্রায় চলে আসে ও বাজারে ডলারের মুল্য একলাফে সেঞ্চুরির কোটায় গিয়ে দাড়ায়, যার ধারাবাহিকতায় এখনো ডলারের মুল্য প্রায় ১৩০এর কোটায় এবং দেশের ব্যাংকগুলির (দেশিবিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬টি) বেশিরভাগ ব্যাংক বেশ আর্থিক সঙ্কটে পড়ে দেউলিয়াত্বের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছে। মুল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ আকার ধারন করে এবং জিডিপি’র মাত্রা ৫এর কোটায় এসে ঠেকে। যার কারনে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে চাকুরি এবং ব্যবসায়িক কর্মসংস্থানের মাত্রা ব্যাপক হারে হ্রাস হতে হতে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে, আর এর দীর্ঘ প্রতিক্রিয়াস্বরুপ কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের রূপ নিয়ে গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার পদ পদত্যাগ করে নির্লজ্জ পালিয়ে যায়। সেইসাথে অনৈতিকভাবে সরকারের চামচামিকরা প্রশাসনের এবং কথিত স্বাধিন বিচার বিভাগিয় প্রেতাত্মা চক্ষুলজ্জা এবং মান সম্মান হারানো ভয়ে পদ পদত্যাগ করে পর্দার অন্তরালে চলে যান। এর প্রতিক্রিয়ায় পতনকৃত সরকারের বিচারক, মন্ত্রী, আমলা থেকে যুবলীগ ছাত্রলীগের উত্থ্যানকৃত চিহ্নিতরা এক কথায় নাটকিয় কায়দায় গ্রেফতার করেই হোক বা যেভাবেই হোক তারা যাতে কোনভাবে ঘরে বা গোডাউনে জমানো টাকা এবং ডলার নিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, এবং আর্থিক খাতে দ্রুত সুফল পাবার জন্য অতি দ্রুত ১০০০ এব ৫০০ টাকার ব্যাংকনোট স্বল্প সময়ের ব্যাবধানে (দি¦তিয় কোন সময় না দিয়ে) বাতিল ঘোষনা করা হলে এসব গচ্ছিত টাকা নিমেশেই চিহ্নিত ব্যাক্তির আইডেন্ডিটি সহ ব্যাংকে চলে আসবে এবং দুষ্কৃতিকারিরা আইনের জালে ধরা পড়বে। যা এই জালিম স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পরপরই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সোসাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। সেই সাথে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে শাস্তির আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে ডলার এবং অন্যান্য অর্থে সন্ধান বেরিয়েআসবে বলে সুশীল সমাজ এবং দেশের প্রয় ১৮ কোটি লোকের বিশ্বাস।
লেখক : সম্পাদক প্রকাশক অর্থনীতির ৩০ দিন
e-mail : arthoniter30din@gmail.com
web : https://arthoniter30dinbd.com