“অযোগ্য এবং সিইও থেকে বহিস্কৃতরাও আইডিআরএ’র সদস্য হতে চায়”

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বিভিন্ন অপরাধে অপরাধি, অপসারিত, অযোগ্য এবং সিইও থেকে বহিস্কৃতরাসহ বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরাও বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ),র সদস্য হতে চায়,এবং তদানুযায়ী সদস্য পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন।
উল্যেখিত এসব প্রার্থী আইডিআেরএ’র সদস্য পদের জন্য এরইমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।
দেশের বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র সদস্য লাইফ এবং ননলাইফ’র পদ দুইটি যথাক্রমে প্রায় দুই বছর এবং পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খালি রয়েছে। সর্বশেষ ২২ নভেম্বর ২০২১ এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এর প্রেক্ষিতেই আবেদন করেন এসব ব্যক্তিরা।
তবে আইডিআরএ’র সদস্য পদে তিনবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও মাত্র ৪১টি আবেদন পাওয়া যায়।এর থেকে ১৪ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে লাইফ বিমা সদস্য পদে আটজন এবং নন-লাইফ বিমা সদস্য পদে ছয়জন প্রাথমিক পর্যায়ে তালিকায় রাখে।
সদস্য, নন-লাইফ পদে আবেদনকারীরা হলেন- মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ খাইরুল আলম, পাপিয়া রহমান, কে এম সাইদুর রহমান, মো. আব্দুল হাই সরকার এবং এস এম জসিম উদ্দিন আহমেদ,এবং সদস্য, লাইফ পদে আবেদনকারীরা হলেন- মো. এনায়েত আলী খান, মো. সামসুল আলম, কামরুল হাসান, ড. বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল, দুলাল চন্দ্র নন্দী, আবুল কালাম মো. আজাদ, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং মো. আনোয়ার হোসেন।
লাইফ বিমার সদস্য পদপ্রার্থী কামরুল হাসান। তিনি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদ থেকে তথ্য গোপন করার অপরাধে অনুমোদনের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় অপসারিত হন, তার নিয়োগ বাতিল করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পদ্মা লাইফের মুখ্য নির্বাহী পদে কামরুল হাসানকে অনুমোদন দেয়া হয়। কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই আবেদন পাঠানোর মাত্র ১২ দিনের মধ্যে তার নিয়োগ অনুমোদন দেয় আইডিআরএ।তার নিয়োগপত্রে শর্ত দেওয়া হয় ‘আবেদনে উল্লেখিত তথ্যাদি পরবর্তীকালে অসত্য প্রমাণিত হলে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে তার অনুমোদন প্রত্যাহার করা হবে’।পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে কামরুল হাসান ক্রেডিট কার্ডে ঋণখেলাপি বলে জানান। যার কারনে অনুমোদনপত্রে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী অনুমোদনের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় কামরুল হাসানের নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
লাইফ বিমার আরেক সদস্য পদপ্রার্থী মো. সামসুল আলম, তিনি সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৬ সালের জুনে। তবে আইনের শর্ত না মেনেই তাকে সিইও পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ প্রবিধানমালা ২০১২ অনুসারে, মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত পরের পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। সানফ্লাওয়ার লাইফের এই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত পরের পদ হল অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এএমডি), অথচ সামসুল আলম ছিলেন কোম্পানিটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক।যান কারনে মো. সামসুল আলমের অনুমোদন বাতিল করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
নন-লাইফ বিমার সদস্য পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম, তিনি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত আছেন। তিনি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পান ২০২১ সালের ২৬ জুলাই।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২ অনুসারে, মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পেতে হলে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ও এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকার বিধান থাকলেও উক্ত প্রোবিধান জারির পুর্বেই নজরুল ইসলাম বিএসসি এবং এমবিএসহ চার বছর মেয়াদ সম্পন্ন করেন।
নজরুল ইসলাম ১৯৮৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৭ সালে বিএসসি পাস করেন। নজরুল ইসলামের বিএসসি ডিগ্রিটি দুই বছর মেয়াদি হলেও পরে ২০১১ সালে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, সাভার ক্যাম্পাস থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।শিক্ষাগত যোগ্যতার এসব তথ্য তিনি মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ অনুমোদনের জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নিকট করা আবেদনে উল্লেখ করেন।