
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
সবুজের বুকে রক্তের দাগ কালিমাখা মেঘে আবার যেনো মুছে না যায়। বিন্ধুতে সিন্ধুর উৎপত্তিস্থল যেন প্রবাহিত রক্তে ভেসে আছে, ক্ষত শুকিয়ে যায় এবং ক্ষতের দাগও একদিন মিলিয়ে যায়, কিন্তু নাড়ী ছেড়া কষ্ট আর বুকফাটা আর্তনাদ অনন্তকালধরে আকাশে বাতাসে নির্মমতার দৃষ্টিতে ক্ষুধার্ত পিপাসায় কাতরাতে তাকে আমৃত্যু। মৃত্যু যন্ত্রনায় আবু ছাইদ এবং আবরার ফাহাদরা কাঁদে না, নিস্পেশিতার আত্মা যখন বর্বরতায় ভরা জিঘাংসার প্রতিশোধ নেবার নেশায় গনহত্যার হোলিখেলায় তমাটে মৃত্যিকাকে রক্তে রঞ্জিত করে, সেই মৃত্যু উপত্তকার ধ্বংসস্তুপ থেকেই নতুন এক প্রজন্মের উত্থান ইতিহাসকে পাল্টিয়ে নতুন আরেক ইতিহাসের জন্ম দেয়, বেঁচে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কবি নজরুলের ভাষায়, ‘বিদ্রোহীর রন ক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না , অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভুমে রণিবে না।’ এ কথাটি হয়তো অনেকেরই জানা যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আপারেশন হলো স্বৈরাচারির নিতম্ব থেকে চেয়ার আলাদা করা। নির্লজ্জ চিত্তে বলতে হয়, যে কাজটি আমাদের দেশপ্রেমিক মঙ্গাপিড়িত সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক দল এবং প্রজাতন্ত্রের আদর্শবান কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্ধ করে দেখাতে পারে নাই, তা করে দেখিয়েছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অগ্রগামি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানতুল্য ছেলেমেয়েরা। হ্যাঁ, পরবর্তী প্রজন্মই পারবে সামনে আমাদেরকে একটা সুন্দর স্বপ্নের দেশ উপহার দিতে।
এখন সুন্দর একটা দেশ এবং সুসৃঙ্খল উন্নত একটা জাতি গঠনের জন্য স্লোগান হবে “বদলে দাও, বদলে যাও…” এই বখে যাওয়া সমাজ এবং দেশকে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন সকল বিষবৃক্ষ আগাছা পরগাছা পরিস্কারের সাথেসাথে রাষ্ট্রীয় সকল অবকাঠামো ঢেলে সাজানো, যার কোন বিকল্প নাই। গত ১৫/১৬ বছরধরে দেশে একটা ফ্যাসিবাদী দখলদার সরকার আজীবন ক্ষমতার পরিকল্পনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ বা চেতনার কথা বলেবলে রাষ্ট্রের সমস্থ অবকাঠামোতে নিজের আত্মিয়-স্বজনসহ মেধাহীন এবং অযোগ্যদের স্থান করে দিয়েছে যার দীর্ঘ প্রতিফল স্বরূপ কোটা আন্দোলন থেকে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে ছাত্র জনতার তোপের মুখে গত ৫ অগাষ্ট ২০২৪ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পদ পদত্যাগ করে সারা বিশ্ব মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার কােটি লোকের দৃষ্টি তাক করে লজ্জাহীন ভাবে দেশ থেকে পালিয়ে পার্শবর্তী দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে এবারের জন্য অন্তত প্রানে রক্ষা পায়। ভারত তাকে কেন আশ্রয় দিয়েছে, কতদিন রাখবে তার মুল রহস্য কি সেটা অন্যদিন লিখব…
এতদিন যারা হাসিনা নেশায় অন্ধ এবং আসক্ত ছিলেন সময়ের খোলা শেষ হাওয়া তারাই আজ বোল পাল্টিয়ে উল্টোপথে বাতাসের গতি মাপছেন। আসলে আমরা আর কতবার স্বাধীন হব? একবার ৪৭শে, এরপর ৭১এ, ৮৮ না ধরলেও এবার ছাত্র জনতার গনআন্দোলনে একটানা ৩৬ দিন পর ৫অগাষ্ট ২০২৪ সোমবার তৃতিয়বার হত্যা-গনহত্যাকে উপেক্ষাকরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মুখোশধারী খুনি রক্তপিপাসু স্বৈরাচারির কবল থেকে। স্বৈরাচারির প্রকৃত বৈশিষ্ট হল, মিথ্যা সত্যের অপালাপে যে কোন ন্যায়-অন্যায়, শাসন অপশাসন, অত্যাচার অবিচার, ঘুম-খুনসহ সকল কিছুকে উপেক্ষা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত বাখা। কিন্তু এবার বিধি বাম, শেষ রক্ষা হলো না… গত ১৫/১৬ বছর থেকে ফ্যাসিষ্ট সরকার যা করেছেন, সবই তার জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতির কাঁধে ভরকরা এই স্বৈরাচার শাসক ২০১৪ সালে টানা দ্বিতিয়বার প্রশাসনের কিছু অনৈতিক লোকের সহযোগিতায় অগনতান্ত্রিকভাবে বিনা ভোটে ১৫৪টি সংসদিয় আসন দখল করে নেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই আজীবন রাষ্ট্রীয় ক্ষতায় থাকার পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি সংবিধান থেকে ষোড়ষ সংশোধনী বাতিল করে একক সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় প্রচলিত আইনকে পদদলিত করে নিজেদের নিয়োগকৃত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ষোড়ষ সংশোধনি বাতিলে সরকারের পক্ষে রায় না দেয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে এবং চাপ প্রয়োগ করে দেশত্যাগে বাধ্য করেন, আর সাবেক পিএম শেখ হাসিনার একক নির্দেশে এর মুল মধ্যস্ততাকারী হিসেবে এ কাজটি করেন তখনকার ডিজিএফআই প্রধান শফিউল আলম।
সাবেক এই বিচারপতির এক সাক্ষাৎকারে যা উঠে আসে, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের জটিল অঙ্কের কিছুটা নির্মম স্বৈরাচারি ইতিহাস। কেন তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সাক্ষাৎকারে সিন্হা বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে আইনের শাসন (বিচার বিভাগের স্বাধীনতা) কায়েম করার জন্য চেষ্টা করেও পারেন নাই। কি কারনে পারেন নাই বলেন তিনি এর মুলে ছিল প্রক্তন বিচারপতি দুলাল (বর্তমানে মৃত)। তিনি শ্রীলঙ্কার উদাহরন দেন যে প্রায় আড়াই তিন বছর পুর্বে শ্রীলঙ্কার অবস্থা কি হয়েছিল রাজা পাকসের আমলে, একক ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশে, শ্রীলঙ্কাকে দেউলিয়া বানানোর অবস্থা থেকে দেশের সাধারন বিপ্লবি জনতা তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। আজ শ্রীলঙ্কা প্রায় শতভাগ সফল এবং শান্তিপ্রিয় অবস্থানে। উদাহরন হিসেবেই দেখা যায় রাজা পাকসের আমলে সে তার পরিবার থেকে শুরু করে নিকটাত্মিয়সহ নিজের সুবিধাভোগি সকলকেই যোগ্যতা অযোগ্যতার কথা চিন্তা না করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আসনে বসিয়েছে। বাংলাদেশেও ঠিক একই কায়দায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীও একই কাজটা করেছেন। কিন্তু বাস্তব কথা হলো রাষ্ট্র বা শাসন কখনো ইমোশানে চলে না। এখন ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে তার দলীয় স্বনির্বাচিত মন্ত্রীসভার অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
এখন যদি রাষ্ট্রীয় সকল অবকাঠামোকে ঢেলে সাজানো না হয় অচিরেই আবার এদের তোপের মুখে পড়তে হবে নবগঠিত অন্তরবর্তীকালন এই সরকারকে। এখন একথা ভুলে গেলে চলবেনা যে বিষবৃক্ষের রাষ্ট্রপতি এখনো ক্ষমতায় আছেন এবং অন্তরবর্তীকালন এই সরকার এই বিষবৃক্ষের রাষ্ট্রপতির নিকটই শপথ নিয়েছেন যেটা নৈতিকভাবে রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিকের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ। এখন যত তাড়াড়াড়ি সম্ভব রাষ্ট্রপতিকে ইম্পিচমেন্ট করার প্রস্তাব আনা উচিত। না হলে স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা রাষ্ট্রপতি যেকোন ছুতা ধরে নবগঠিত অন্তরবর্তীকালীন এই সরকার ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় আন্দোলন এবং গনহত্যার মধ্যদিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে পলাতক সরকারকে পুনর্বহাল করতে দ্বিধাবোধ করবে না, কারন একটা বিষবৃক্ষ আরেকটা বিষবৃক্ষের জন্ম দেয়। তখন রাষ্ট্র একটা সঙ্কট থেকে উদ্ধার হতে গিয়ে আরেকটা মহাসঙ্কটে পড়ে পুরুদেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত না হয়। আমরা জানি ফনাতোলা সাপ মরে যাবার আগ পর্যন্ত কামড় দিতে না পারলেও জাত বৈশিষ্ট অনুযায়ী ফনাতোলা বন্ধ করে না। এখন প্রশ্ন হল অতি তাড়াতাড়ি সাংবিধানিক এবং আইনি জটিলতাগুলি দুর না করলে স্বৈরারের সুবিধাভোগিরা মৃত্যুর আগে আরেকটা মরন কামড় দিতে পারে। জার্মানিতে হিটলার নাতসি নিধন করতে গিয়ে নাগরিকদের সমালোচনার মধ্যে সামান্নকিছু নাতসি রেখে দেয়, পরবর্তীতে তারা জার্মানি দখল করতে চেষ্টা করে। তখন হিটলার বলেছিলেন এবার দেখ কেন আমি তাদের নিধন করতে চেয়েছিলাম। আমাদের দেশেও স্বপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে হাসিনা-রেহানা বিদেশে থাকাতে মেজর ডালিম বলেছিলেন, আমাদের দেশের জনগন কোন একদিন স্মরন করে বলবে, কেন আমি শেখ মজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে ধ্বংস করতে চেয়েছি। এখন ছাত্র জনতার কথা হলো, আমরা আর কখনো পুর্বাবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। এজন্য যা যা করা দরকার সময় থাকতে তা করে ফেলা ভালো, আমরা আর দ্বিতিয় বা তৃতিয়বার আয়নাঘর দেখতে চাই না।
একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলেছিলেন এসকে সিনহাকে যেভাবে অপসারন করা হয়, সেটা নিয়ম অনুযায়ী পারেন কিনা যানা নেই, কিন্তু প্রধান বিচারপতি সিনহা তখন আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টকে বলার পরও তার বিপক্ষে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। প্রধান বিচারপতি জেলায় জেলায় গিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ডিসি এসপিদের বলার পরও প্রধানমন্ত্রী নিজের আধিপত্ত রক্ষায় সিনহার এ ব্যবস্থাকে ভালভাবে নেন নাই। রাষ্ট্রীয় এবং জনস্বার্থের কথা চিন্তা না করে সরকারের আজ্ঞাবহ অনির্বাচিত আইনমন্ত্রী বিচারকদের নিয়োগ-অপসারন প্রস্তাব নিজেদের সাজানো সংসদে উত্থাপন করার পরপরই তা অনির্বাচিত ক্ষমতা দখলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে পাশ হয়ে যায়, বিশেষকরে এর মুলে ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক এবং সংসদ সদস্য সুরঞ্জিতসেন গুপ্ত। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের ১৫৪টি সংসদিয় আসন বিনা প্রতিদন্ধিতায় দখল করে নেয়ার পর সিনহা অবজেকশন দেওয়ার পর অর্থ্যাৎ মেনে না নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তাব উপরই প্রভাব তৈরি হয়। যেহেতু সেই ১০ম জাতীয় সংসদের বেশিরভাগ এমপি ছিলেন ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য এবং সুবিধাভোগি। যে কারনে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর সিনহার প্রতি ঝামেলা সৃষ্টির অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন পালিয়ে যাওয়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এভাবেই এক এক করে রাষ্ট্রের সমস্থ অবকাঠামোকে ভেঙ্গেচুরে চুরমার করে দিয়ে নিজইচ্ছামত সর্বক্ষেত্রে নিজের অযোগ্য লোকেদের স্থান করে দেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতিগুলি কি কি আপামর জনসাধারন না বুঝলেও এখন এটা বুঝতে পারবে সংবিধান থেকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের কারনে প্রধন বিচারপতির ক্ষমতা সীমিত হয়ে ফ্যাসিষ্ট প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ সংসদ সদস্যদের হাতে চলে যায়। এককথায় স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বিচার ব্যবস্থা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়, যার কারনে বিভিন্ন অনিয়ম, অবিচার, দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ যাই করা হোক না কেন বিচারের ক্ষেত্রে সবকিছু সংসদ সদস্যদের প্রভাবে পরিনত হয়ে যায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের পুর্ণ নিয়ন্ত্রনে চলে আসে এবং প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা খর্ব হয়। যার ফলশ্রুতিতে দেশের বিচার ব্যবস্থা বিচারকদের হাত থেকে সংসদের হাতে চলে যায়, তৈরি হয় বিচাহীনতার সংস্কৃতি। এভাবেই পুরু দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত এই স্বৈারচারির হাতে চলে যাওয়াতে দেশের মানুষ ন্যায় বিচার, কথা বলার অধিকার, মানবাধিকার সবকিছু হারিয়ে একটা ভিতু জাতিতে পরিনত হয়। কেউ প্রতিবাদ বা বিরুদ্ধাচরন করলে তাকে আয়না ঘর বরন না হয় একেবারে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
আসলে কোন অন্যায় অত্যাচার বা কোন অপশাসন যেমন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে চলতে পারে না, ঠিক তেমনি মানুষের মনের ভিতরের চাপা ক্ষোভও মানুষ বেশি দিন ধরে রাখতে পারে না, নিয়ম অনুযায়ী এক সময় না এক সময় যে কোন ইস্যু ধরেই এর বিরুদ্ধ বিষ্ফরন ঘটবেই। যার দীর্ঘ প্রতিফল স্বরূপ কোটা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, শেষ পর্যন্ত ছাত্র জনতার তোপের মুখে গত ৫ অগাষ্ট ২০২৪ সাবেক এই ফ্যাসিষ্ট প্রধানমন্ত্রীকে পদ পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্তত প্রানে রক্ষা পায়। এখানে যে বিষয়টা আমাদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হয়, তা হলো আমাদের দেশের বিবেক বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায়ই ক্ষমতাসিন দলের একটু দুর্যোগ দেখলেই মনে করে নিজেরা ক্ষমতায় এসেগেছে, এবং জনগনের সস্তা জনপ্রিয়তায় গদগদ হয়ে যায়, যা গত ১৫/১৬ বছরে অনেকবার দেখাসহ গত ৫জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ তৃতিয়বার স্বাধীন হওয়ার পর ৭ জুলাই বিএনপি’র সমাবেশে বিএনপি’র একজন দায়িত্বশীল নেতার কথায় বেরিয়ে আসে। যেখানে গত দীর্ঘ সময় বিভিন্ন ইস্যু হাতে পেয়েও বিএনপি’র মত একটা শক্ত রিরোধী রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন সরকারকে চুল পরিমানও টলাতে পারে নাই। আর এ ব্যাপারটা দেশের কিছুকিছু সুশীল সমাজসহ সচেতন নাগরিক এবং আপামর জনগনগন কেহই সহজভাবে গ্রহন করে নাই, দলের দায়িত্বশীল সবাই এটা মনে রাখা উচিত। অনেকে মনে করেন, দেশের দুটা দলই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
এখন নবগঠিত অন্তরবর্তীকালন এই সরকারকে সময় দিতে হবে, যাতে করে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রের এই দুর্বল অবকাঠামোকে সম্পুর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহীতার শক্ত অবস্থান তৈরী না হওয়া, দেশের জনগনের ভোটধিকার, মানবাধিকার নিশ্চিতকরন, দ্রব্যমুল্যের স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং আইন সৃঙ্খলা সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রনে না আসা পর্যন্ত কোনরকম অপশক্তির কাছে মাথা নত করা বা নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। আর এর জন্য যদি দু-চার বা পাঁচ-সাত বছর সময়েরও প্রয়োজন হয় হোক, তাতে দেশের আঠারো কোটি জনগন সময় দিতেও প্রস্তুত, যাতেকরে আরেকটা ৫অগাষ্ট না তৈরি হয়, এটাই অন্তরবর্তীকালন সরকারের নিকট প্রত্যাশা…
লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন
e-mail : arthoniter30din@gmail.com
www. arthoniter30dinbd.com











