জাতি

সকল প্রস্তুতি আছে-এ রকম ভাঙা রেকর্ড আর না শুনে এ মহা বিপর্যয় মোকাবেলায় কার্যকরী ও দৃশ্যমান সরকারী পদক্ষেপ দেখতে চায়। আজ বেলা ৩.০০টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলের নির্বাহী সভাপতি আবদুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের করণীয়”-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় দলীয় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। আরও বক্তব্য রাখেন, দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, অতিঃ মহাসচিব কাজী এ.এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, দফতর সম্পাদক খোন্দকার জিল্লুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান, মোঃ নূর আলম প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা বিস্তার ও প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের লাগাতার প্রচার করা সাবধান বানীকে অবহেলা করে আমাদের দেশে যথা সময়ে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। করোনা বিস্তারের প্রধান ফটক তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতর শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার সচল আছে তাও মাত্র একটি। এছাড়া স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন গুলোতেও করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা যথাসময়ে গৃহীত হয়নি। যার ফলাফল হিসাবে ইটালি ফেরত দুই বাংলাদেশী নাগরিকের মাধ্যমে দেশে এই ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধির প্রবেশ ঘটেছে। অথচ এখনও আমাদের সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা “করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি আছে” -এ রকম ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। মার্চ-এপ্রিল আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগের মৌসুম শুরু হবে- ডেঙ্গু রোগ বাহী মশা নিয়ন্ত্রণ তৎপরতা বাড়াতে হবে। এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৎপর না হলে বাংলাদেশের মত জনবহুল ও অব্যবস্থাপনা পূর্ণ দেশে করোনা ও ডেঙ্গু এই দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগের যৌথ আঘাত মহামারী আকার ধারণ করবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেসমাস্ক, টিস্যু পেপার, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তরল জীবানুমুক্তকরন ঔষধ ইত্যাদি এবং শুকনো খাবার, তরল পানীয় ও ফল-ফলাদির বাজারে যাতে মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেট সক্রিয় না হতে পারে এবং সারাদেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত থাকে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারী এবং আগাম প্রস্তুতি হিসাবে উপজেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য কোয়ারেন্টাইন ও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের দাবী করেছেন নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে নাজাত কামনা করে দোয়া করা হয়।











